১৪ দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন: জানা গেল কারণ
![]() |
| ১৪ দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন: জানা গেল কারণ |
স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দেশটির স্পট গোল্ডের দাম ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ২,৬৪৯.৭৩ ডলার হয়েছে, যা ডিসেম্বর ১৮-এর পর সর্বোচ্চ। এদিকে, মার্কিন গোল্ড ফিউচারসও শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২,৬৬৩.২০ ডলারে পৌঁছেছে। এই খবর জানিয়েছে খালিজ টাইমস।
স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণ
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে কেনা-বেচার হার বেড়ে যাওয়াই এর মূল কারণ। একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দরপতনও স্বর্ণের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি স্বর্ণের দামের উর্ধ্বগতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মার্কিন ১০ বছরের বন্ডের মূল্য কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বেশি করে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকেছেন। কারণ স্বর্ণ মুনাফা প্রদান না করলেও এটি নির্ভরযোগ্য।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্ববাজারে উত্তেজনা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণমুখী হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। ২০২৪ সালে সুদের হার কমানো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয় বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা স্বর্ণের দরকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। ফলে বছরে স্বর্ণের দাম প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বছরের শুরুতে মুনাফা সমন্বয়ের পর স্বর্ণের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩,০০০ ডলার ছাড়াতে পারে।
অন্যান্য ধাতুর দাম
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। রুপার দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৯.৪৮ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৯২২.৮৫ ডলার হয়েছে। প্যালাডিয়ামের দামও ১.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯২২.০৪ ডলারে পৌঁছেছে।
স্বর্ণের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন দিশা খুলে দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বর্ণের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলবে।


No comments:
Post a Comment